পিরোজপুর জেলা যুবদলের এক নেতাসহ দুই ভাইয়ের ওপর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তারা দুজনেই পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পিরোজপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন— জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ সরদার এবং তার চাচাতো ভাই ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল সরদার। তারা দুজনই ওই এলাকার বাসিন্দা।
আহত জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ সরদার জানান, রাতে চাচাতো ভাই সাইফুলসহ তারা মধ্যরাস্তা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক সেখানে আওয়ামী লীগের পোস্টার লাগাতে এলে তাদের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পোস্টার লাগাতে আসা যুবকরা আকস্মিক ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তারা দুজনেই মারাত্মক জখম হন।
রিয়াজ সরদার আরও জানান, তাদের চিৎকারে স্থানীয় এলাকাবাসী ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক শেখ ইমরান শুভকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পাশাপাশি আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
যুবদলের আলটিমেটাম ও বিএনপির ক্ষোভ:
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পিরোজপুর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক মাসুদ বলেন, "নিশিন্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতা ও তার ভাইয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে জেলা যুবদল কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।" অন্যদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা জেলা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটাতে পারে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শেখ ইমরান শুভ নামে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

